দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ‘চিত্রনাট্য রচনা, গল্প বলার ধরণ এবং চলচ্চিত্রসহ গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিতকরণে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গঠনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেল। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও সুগঠিত চিত্রনাট্যই চলচ্চিত্রের মূল ভিত্তি, যা দর্শকের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও বাস্তবতার প্রতিফলন তুলে ধরতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনিয়ন্ত্রিত বিষয়বস্তু, বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রতিষ্ঠা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজ গঠন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির শক্তিশালী উপকরণ। তাই এ খাতে নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম খাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নৈতিক মানোন্নয়ন এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
স্ক্রিপ্ট রাইটার ও নির্মাতা মেজবাহ উদ্দিন সুমন বলেন, একটি মানসম্মত গল্প ও সুসংগঠিত চিত্রনাট্যই চলচ্চিত্রকে দীর্ঘস্থায়ী আবেদন দেয়। সৃজনশীলতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সংবেদনশীলতাও নির্মাতাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর বলেন, চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে শিক্ষা, গবেষণা এবং নীতিনির্ভর চর্চার সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। এ জন্য একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিল্লুর রহমান পল। তিনি বলেন, শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এ ধরনের কর্মশালা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মোকছেদ হোসেন।
কর্মশালার সমাপনী পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গবেষক এবং গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, ডিজিটাল বিষয়বস্তু ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক গণমাধ্যম চর্চা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
এমএস/